নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ১৬ দিনব্যাপী প্রচারাভিযানের আলোচনা সভার বক্তারা: ডিজিটাল নিপীড়ন বন্ধে নারীদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরি করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ । ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: নারীদের একটি বড় অংশকেই অনলাইনে অপমানজনক মন্তব্য, অবাঞ্ছিত বার্তা, ভুয়া আইডি তৈরি, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশসহ নানা ধরনের ডিজিটাল সহিংসতার মুখে ফেলছে। নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশ রক্ষায় একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক ডিজিটাল স্পেস তৈরির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ২৯ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা শহীদ হাদিস পার্কে রূপান্তর আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্বলন ও শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে এ কথাগুলো বলেন বক্তারা।
‘ডিজিটাল সহিংসতা রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হোন: নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করুন’ এই প্রতিপাদ্যে ‘১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫’ উপলক্ষে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর মোমবাতি প্রজ্বলন, আলোচনা সভা, শপথ বাক্য পাঠ ও পটগান প্রদর্শনীর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তাব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মেদ, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, নারী নেত্রী ও উন্নয়ন কর্মী শামিমা সুলতানা শিলু, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী এ্যাড. মমিনুল ইসলাম ও অশোক কুমার সাহা, রূপান্তরের এইচআর ম্যানেজার মঞ্জুয়ারা পারভীন, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সুবল কুমার ঘোষ।
বক্তারা বলেন, নারীদের একটি বড় অংশকেই অনলাইনে অপমানজনক মন্তব্য, অবাঞ্ছিত বার্তা, ভুয়া আইডি তৈরি, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশসহ নানা ধরনের ডিজিটাল সহিংসতার মুখে পড়তে হয়। এগুলো তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে নারীদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, ঘুমের ব্যাঘাত ও আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। ফেসবুক, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু এর আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ংঙ্কর মানব পাচারকারী চক্র। এই চক্রের এজেন্টরা (দালাল) টিকটক, লাইকি, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং দেশে-বিদেশে লোভনীয় চাকরিসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করছে। এমনকি জিম্মি করে মুক্তিপণ আদাও তারা প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে।
তাই সবার জন্য বিশেষ করে ডিজিটাল নিপীড়ন বন্ধে নারীদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে জোর দেন বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, কিন্তু অধিকাংশ ভুক্তভোগী এখনো রিপোর্টিং পদ্ধতি, সহায়তা কেন্দ্র ও প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা টুলস সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখে না। সে কারণেই ডিজিটাল হয়রানি, ডিভাইস ও প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ সমস্যা, সাইবার বুলিং, অনলাইন নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশ রক্ষায় একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক ডিজিটাল স্পেস তৈরির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নবনীতা দত্ত।
অনুষ্ঠানে নারী সংগঠনের প্রতিনিধি, ইয়োথ ক্লাবের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ছাত্র, শিক্ষক, সরকারী বেসরকারী চাকুরীজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, গৃহিনী, সিটিসি সদস্য, সিটিআইপি প্রতিনিধিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপান্তরের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাবেয়া বশরী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল হান্নান ॥ ঠিকান: শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা। মোবাঃ +8801718-758990, বিজ্ঞাপন: , ই-মেইল: hannanbd032@gmail.com ॥  ডিজাইনার : মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম

প্রিন্ট করুন