“মানব পাচার থেকে উদ্ধার, জনশক্তি অফিসে অভিযোগ দায়ের, রিক্রুটিং এজেন্সীর থেকে অর্থ আদায়” এভাবেই সারভাইবারদের সহযোগীতা করছে জেলা সিটিআইপি সদস্যরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ৮:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আলেয়া (ছদ্মনাম) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা, তিন সন্তানের জননী, স্বামী দিনমুজুর। অভাবের সংসারে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কথা চিন্তা করে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স আল বোখারী তাদের নিয়োজিত স্থানীয় দালাল ফরিদা’র মাধ্যমে সৌদি আরব যায় এবং বাসাবাড়ির কাজে নিয়োজিত হয়। দিন-রাত কাজ করতে হয় আলেয়াকে, সামান্য ত্রæটি হলে তাকে শারীরিক ভাবে অত্যাচার করা হয়। সে অতিরিক্ত কাজে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে আলেয়া সে রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করলে তার উপর আরও অত্যাচার বেড়ে যায়। পরবর্তীতে সৌদির দালাল তাকে অন্যত্র বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনজন যৌন ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করে, তারা তাকে দেখে পছন্দ করে এবং তাকে কিনে নিতে চায়।
আলেয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে বাংলাদেশে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং বিষয়টি পরিবারকে জানায়। আলেয়ার বিদেশ যাওয়ার আগেই গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সোনাডাঙ্গা হরিজন কলোনী মন্দির মাঠে সুইজারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর বাস্তবায়নে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় রূপান্তর থিয়েটার “নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ” শিরোনামে পটগান প্রদর্শনী করে। পটগানে মানব পাচারের কারণ, মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, মানব পাচারের প্রভাব, পাচারকারীর শাস্তি ও নিরাপদ অভিবাসন ইত্যাদি বিষয়ে গানে গানে ও নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
আলেয়া ও তার পরিবার পটগানের দিন জেনেছে “আশ্বাস” প্রকল্পের আওতায় মানব পাচার প্রতিরোধে সক্রিয় কর্মী (সিটিআইপি) সদস্যরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। পরিবারটি সিটিআইপি সদস্য আলভী শেখ-এর সাথে যোগাযোগ করলে সিটিআইপি সদস্য তাকে দেশে ফিরে আনার জন্য জন্য এজেন্সির দালাল ও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ প্রদান করে।
আলেয়ার পরিবার সিটিআইপি সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশী দালালের সাথে যোগাযোগ করে। দালাল আলেয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার অস্বীকৃতি জানায়। দালালকে আইন, কেস, সাংবাদিক ইত্যাদি বিষয়ে ভয় দেখালে এক পর্যায়ে দালাল রাজি হলেও মোটা অংকের টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে সিটিআইপি সদস্য, সিটিএন সদস্য, স্থানীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের চাপে ২২ দিনের মাথায় আলেয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে সিটিআইপি সদস্য আলভী শেখ ও জারিন তাসনিম ১লা জুলাই, ২৫ তারিখে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে অফিসে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এবং ২জুলাই, ২৫ তারিখে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ তে দালালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ আগস্ট, ২৫ তারিখে অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স আল বোখারী-এর বিরুদ্ধে সারভাইবার কর্তৃক আনীত অভিযোগের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে তথ্য প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানীত হলে আলেয়াকে নগদ ৪০,০০০/- টাকা সহকারী পরিচালক (কর্মসংস্থান) ও তদন্ত কর্মকর্তা আমেনা পারভীনদের উপস্থিতে গত ২৮ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে প্রদান করে। আর এভাবেই মানব পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতার করছে জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল হান্নান ॥ ঠিকান: শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা। মোবাঃ +8801718-758990, বিজ্ঞাপন: , ই-মেইল: hannanbd032@gmail.com ॥  ডিজাইনার : মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম

প্রিন্ট করুন