আসাদ আফ্রিদী শ্যামনগর থেকে: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিায় ইউনিয়নের ১৩০ নং পূর্ব আটুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও জরাজীর্ণ টিনের ঘরে অমানবিক পরিবেশে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ছাউনির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে পুরাতন মরিচা ধরা টিন। টিনের বেড়া ও স্যাঁতসেঁতে দাগ, ফাটল ধরা মেঝে আর কোথাও কোথাও জমে থাকা পানি। বর্ষাকালে বৃষ্টির দিনে ক্লাস চালানো প্রায় অসম্ভব। গ্রীষ্মে ঘরের ভেতরে তীব্র গরমে ছোট ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভাঙা বেঞ্চে বসে ভিজে বই-খাতায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা যেন এক যুদ্ধ।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭০ জন। ৬ জন শিক্ষক প্রতিদিন এই স্যাতসেতে পরিবেশে ক্লাস পরিচালনা করছেন।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প স্থগিত হওয়ায় হতাশায় গ্রাস করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম,এম আব্দুল হাই বলেন, “বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার পরিবেশ ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে”।
৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমান শাহরিয়ার জানায়, “বৃষ্টির সময় বই ভিজে যায়, গরমে মাথা ঘুরে। ঠিকমতো বসাও যায় না”।
অভিভাবক আশরাফুল কবির বলেন, “১০ বছর পূর্বে পুরতান ভবন সরকারীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। পরিত্যক্ত ভবনটি ২০২৩ সালে অপসারন করা হয়। ১০ বছরে একটি স্থায়ী ভবন হয়নি! এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা অভিভাবকরা ভীষণ উদ্বিগ্ন।দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি”।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার অন্যান্য স্কুলে একাধিক নতুন ভবন হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের দিকে নজর নেই কারও।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলমগীর আল আজাদ বলেন , “১৩০ নং পূর্ব আটুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এই অঞ্চলের শিক্ষার ভিত্তি। জরাজীর্ণ টিন সেটের কারণে অভিভাবকরা এখান থেকে বাচ্চাদের অন্য বিদ্যালয় ভর্তি করছে । ১০ বছরেও ভবন না থাকা সরকারি অবহেলার নিদর্শ “।
এলকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের হস্তেক্ষেপে অতিদ্রুত এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জোর দাবী জানান এবং অত্র এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় এই বিদ্যালয়টিতে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মানের দাবি করেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫ । ৯:০১ পূর্বাহ্ণ