শ্যামনগরের বংশীপুরে মাদকের ছায়া: ‘হাড়ার বাড়ি’ ঘিরে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ
মাদক বিক্রেতা দুই ভাই ফারুক ও শাহীন
বিশেষ প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামে একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ও মাদকের রমরমা ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত “হাড়ার বাড়ি” ঘিরে এই অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়িটির মালিক ইসরাফিল হোসেন হাড়া কয়েক যুগ ধরে মাদক কেনাবেচা করে তার নামে বেশ কয়েকটি মামলাও আছে। আইনের ফাক-ফোকরে সে বাইরে আসে আবারও ব্যবসা পরিচালনা করে। বর্তমানে মাদক সংক্রান্ত মামলায় জেল হাজতে রয়েছেন। তবে তার অনুপস্থিতিতেও থেমে নেই মাদকের ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে—তার দুই ছেলে ফারুক ও শাহীন ওই ব্যবসা পরিচালনা করছে।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটিতে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় মোটরসাইকেলে করে অপরিচিত লোকজনের আসা-যাওয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বংশীপুরের একজন বাসিন্দা বলেন,
“আগে আমাদের এলাকায় এমন পরিস্থিতি ছিল না। এখন তরুণদের মধ্যে মাদকের প্রভাব বাড়ছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। প্রায়ই ২০ ধরে তাদের পরিবার মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের মাদকের ব্যবসা বন্ধ করতে পারেনি কেউ।”
অন্য একজন বাসিন্দা বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে বলে শুনেছি, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও জানান, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শ্যামনগরে মাদক প্রবেশের ঝুঁকি বেশি। এতে স্থানীয় তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন